ব্রিটিশ-ভারতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুসলিম রেনেসাঁ ও সমবায় আন্দোলন
(১৯২৬-১৯৩০) ব্রিটিশ-ভারতের চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুসলিম রেনেসাঁ আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন যথাক্রমে: আনোয়ারুল আজিম (ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল), খান বাহাদুর আবদুস সাত্তার, মৌলভী আবদুল হক দোভাষ, রাহাত আলী চৌধুরী ও মৌলভী এখলাছুর রহমান প্রমুখ।
এঁরা সামন্তশ্রেণির প্রতিনিধি হলেও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। ব্রিটিশ শাসক ও সামন্ত-জমিদারদের প্রভাবে উপেক্ষিত এই জাতীয়তাবাদীরা সমাজের ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান নিয়ে এক গভীর সামাজিক দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছিলেন। নিজেদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে তাঁরা সমবায় আন্দোলনকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়াকে এক পবিত্র দায়িত্ব বলে গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কৃষক সমিতির জন্ম (১৯২৬)
১৯২৬ সালের প্রথম দিকে মুসলিম রেনেসাঁ আন্দোলনের সমর্থকরা চট্টগ্রামে সমবায় আন্দোলনের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ফলশ্রুতিতে ৩ ডিসেম্বর ১৯২৬ তারিখে নিবন্ধিত হয়: “চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কৃষক সমিতি লিমিটেড”।
এর আগে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় নির্বাচিত হন:
- সভাপতি: জনাব আনোয়ারুল আজিম (ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল)
- সাধারণ সম্পাদক: মৌলভী এখলাছুর রহমান
চট্টগ্রাম পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব নুর আহমদ, মৌলভী আবদুল হক দোভাষসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত হয় ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি। সভায় উপস্থিত ছিলেন খান বাহাদুর আবদুস সাত্তারসহ মোট ৩০ জন। এটি ছিল সমিতি সদস্য ও ব্যক্তি সদস্যদের যুগপৎ প্রতিনিধিত্বকারী একটি মিশ্র ধরনের কেন্দ্রীয় সমিতি।
ভূমিহীনদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা
এই কেন্দ্রীয় সমিতি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সমুদ্র উপকূলবর্তী ও কর্ণফুলী নদী অববাহিকার বিভিন্ন চরে ভূমিহীন কৃষকদের সমবায়ের ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা হবে। উল্লেখযোগ্য এলাকাসমূহ:
- চকরিয়া-সুন্দরবন অঞ্চল: রিংভং, সোনাছড়া, মালুমঘাট, বদরখালী
- কর্ণফুলী অববাহিকা: চর মোহরা, বাকলিয়ার চর, রাজাখালীর দক্ষিণ-পূর্ব চর, চাকতাই প্রভৃতি
এসব এলাকায় খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য রাজস্ব বিভাগে আবেদন করা হয়।
বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির প্রতিষ্ঠা (১৯৩০)
- ১৯২৭ সালের ৩০ মার্চ → বেঙ্গল সমবায় নিবন্ধক সমিতি পরিদর্শন করেন এবং ভূমিহীনদের জন্য নতুন প্রাথমিক সমিতি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।
- ১৯২৮ সালের ২৫ জুন → মাতারবাড়ী ও বদরখালীতে কলোনাইজেশন সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত।
- ১৯২৮ সালের ৬ আগস্ট → কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত নোটিফিকেশন নং ১৫২০৮ (বন)-এর মাধ্যমে বদরখালী মৌজায় ৩৯১০.৪০ একর জমি বন বিভাগ থেকে ছাড় করা হয়।
- ১৯৩০ সাল → আইনানুগভাবে গঠিত হয় “বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি”।
এভাবে চট্টগ্রামের মুসলিম রেনেসাঁ নেতৃবৃন্দ ভূমিহীন মুসলিম কৃষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে সমবায় আন্দোলনকে এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন।
Last Updated on 02/12/2025 by musunny.95